যাদবপুর Ragging কাণ্ডে সিবিআই চেয়ে এবার জনস্বার্থ মামলা কলকাতা হাইকোর্টে।

0
53
যাদবপুর university

যাদবপুর Ragging

যাদবপুর Ragging কাণ্ডে সিবিআই চেয়ে এবার জনস্বার্থ মামলা কলকাতা হাইকোর্টে। একই সঙ্গে এনআইএ এবং এনসিবিকেও যুক্ত করার আবেদন জানানো হয়েছে হাইকোর্টে। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রাক্তনী এই মামলা দায়ের করেছে বলে জানা গিয়েছে।

যাদবপুরের Ragging ঘটনায় মোট ধৃতের সংখ্যা বেড়ে ১২। যাদবপুর কাণ্ডে পুলিশের জালে আরও তিন পড়ুয়া। দফায় দফায় জেরার পর তিনজনকে গ্রেফতার করা হয় বলে জানা গিয়েছে। ধৃতদের মধ্যে দুজন প্রাক্তনী এবং একজন বর্তমান প্রাক্তনী। ধৃত ২ প্রাক্তনীর নাম শেখ নাসিম আখতার, হিমাংশু কর্মকার। আরও একজনের নাম সত্যব্রত রায় বলে জানা গিয়েছে। সে বর্তমানে পড়াশোনা করছে। বাকিরা হোস্টেল ছাড়লেও সে সেখানেই ছিল বলে খবর।

এমনকি ডিন অফ স্টুডেন্টস ও হস্টেল সুপারের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। তবে ধৃত পড়ুয়ারা বারবার পুলিশকে ভুল পথে চালানো করছে বলে খবর। ফলে বেশ কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর এখনও অধরা বলে জানা যাচ্ছে।

ইতিমধ্যে ডিন অফ স্টুডেন্টসকে একাধিকবার জেরা করেছে পুলিশ। এমনকি হোস্টেল সুপারের ভূমিকাও প্রশ্নের মুখে। ছাত্র-মৃত্যুর ঘটনার দিনে রাতেই এক ছাত্র ডিন অফ স্টুডেন্টসকে ফোন করা হয়। পুরো বিষয়টি জানানো হয় তাঁকে। বিষয়টি হাসপাতাল সুপারকে দেখতে বলেন। এমনকি পরেও ছাত্রের পরে যাওয়ার বিষয়টি জানানো হয় ডিন অফ স্টুডেন্টসকে। কিওন্তু সমস্ত কিছু জেনেও হোস্টেলে যাননি। এমনকি সুপারও হোস্টেলে যাননি বলে খবর। ছাত্ররা তাঁকে মারতে পারে। এই আশঙ্কায় তিনি জাননি বলে জানা গিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে কেন তিনি সব কিছু জানার পরেও হোস্টেলে যাননি।

এই অবস্থায় আতঙ্কে হোস্টেল ছাড়ছেন পড়ুয়ারা। বিতর্কের মধ্যে শুক্রবার রাতে হোস্টেল ঘুরে দেখেন অ্যান্টি র‍্যাগিং কমিটি। শুধু তাই নয়, কথা বলেন পড়ুয়াদের সঙ্গে। তবে সবাই প্রায় চলে গিয়েছে। কিন্তু কারা গেছে একটা তালিকা তৈরির কথা বলা হয়েছে। শুধু তাই নয়, কড়া ভাবে রেজিস্টার মানার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

এরমধ্যেই যাদবপুর Ragging কাণ্ডে ইউজিসি-কে প্রথম পূর্ণাঙ্গ রিপোর্ট পাঠাল বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। ১২টি প্রশ্নের জবাবে ৩১টি ফাইল পাঠানো হয়েছে।

Jadavpur

উল্লেখ করাহয় অ্যান্টি-র্যাগিং সংক্রান্ত পোস্টারও দেওয়া হয়। কোনও সমস্যায় পড়লে কথা বলার জন্য দেওয়া হয়েছিল ফোন নম্বর। অ্যান্টি-র্যাগিং-সহ যাবতীয় সার্কুলার বা নির্দেশিকার তালিকা দেওয়া হয়েছে ইউজিসি-কে। মৃত ছাত্র হস্টেলের আবাসিক না হওয়ায়, তাকে নিয়ে হস্টেল সংক্রান্ত ডিক্লারেশন দেওয়ার প্রশ্ন নেই বলে ইউজিসি-কে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। খবর সূত্রের।

এতকিছুর পর যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে (Jadavpur University) পড়ুয়া মৃত্যুর পর অবশেষে ঘুম ভেঙেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের। এখন প্রতিদিন রাতে হস্টেল পরিদর্শন করে অ্যান্টি র্যাগিং কমিটি (Anti Ragging Committee) ও আধিকারিকরা। বিশেষভাবে খোঁজ নেওয়া হয়, হস্টেলে আর কোনও প্রাক্তনী আছেন কি না, সে সম্পর্কে। হস্টেল সুপাররা জানান, অনেক স্টুডেন্টরা চলে গিয়েছেন আতঙ্কে। যাঁরা হস্টেল ছেড়েছেন, তাঁদের তালিকা তৈরি করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এখন রাত ৮টার পর হস্টেল থেকে বেরোলে রেজিস্টারে নাম লিখে রাখার নির্দেশ দিয়েছে অ্যান্টি-র্যাগিং কমিটি এবং বাইরে থেকে হস্টেলে ঢোকার সময়ও রেজিস্টারে লিখতে হবে নাম। এই পরিস্থিতিতে শিক্ষা মহলের একাংশ মনে করছে, পড়ুয়া মৃত্যুর আগে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ এই তত্‍পরতা দেখালে বাঁচত অকালে ঝরে যাওয়া প্রাণ।

যাদবপুরে ছাত্র মৃত্যুর ঘটনায় রাজ্যজুড়ে তোলপাড় হচ্ছে। সবাই চাইছে সুস্থ ক্যাম্পাস!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here