ডেঙ্গু এবং মারাত্মক ডেঙ্গু

0
56

Dengue and severe dengue

ডেঙ্গু হল একটি ভাইরাল সংক্রমণ যা সংক্রামিত মশার কামড়ের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সংক্রমিত হয় এবং এটি বিশ্বব্যাপী গ্রীষ্মমন্ডলীয় এবং উপ-গ্রীষ্মমন্ডলীয় জলবায়ুতে পাওয়া যায়, বেশিরভাগ শহুরে এবং আধা-শহুরে এলাকায়। প্রাথমিক ভেক্টর যেগুলি এই রোগটি ছড়ায় তারা হল এডিস ইজিপ্টি মশা এবং কিছুটা হলেও এডিস অ্যালবোপিকটাস.

প্রধান লক্ষণ:-

ডেঙ্গুতে আক্রান্ত বেশিরভাগ লোকের হালকা বা কোন উপসর্গ নেই এবং 1-2 সপ্তাহের মধ্যে ভালো হয়ে যাবে। কদাচিৎ, ডেঙ্গু মারাত্মক হতে পারে এবং মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।  উপসর্গ দেখা দিলে, সাধারণত সংক্রমণের 4-10 দিন পরে শুরু হয় এবং 2-7 দিন স্থায়ী হয়।

উপসর্গ গুলি হতে পারে: উচ্চ জ্বর (40°C/104°F), চোখের পিছনে ব্যথা, পেশী এবং জয়েন্টে ব্যথা, বমি বমি ভাব, ফোলা গ্রন্থি, ফুসকুড়ি ইত্যাদি ।

যে ব্যক্তিরা দ্বিতীয়বার সংক্রমিত হয়েছেন তাদের মারাত্মক ডেঙ্গুর ঝুঁকি বেশি।

গুরুতর ডেঙ্গুর লক্ষণগুলি প্রায়ই জ্বর চলে যাওয়ার পরে আসে: যেমন সাংঘাতিক পেটে ব্যথা, অবিরাম বমি, দ্রুত শ্বাস – প্রশ্বাস, মাড়ি বা নাক দিয়ে রক্তপাত, ক্লান্তি, অস্থিরতা, বমি বা মলে রক্ত, খুব বেশি জল তেষ্টা পাওয়া, ফ্যাকাশে এবং ঠান্ডা ত্বক, দুর্বল বোধ, এই গুরুতর উপসর্গযুক্ত ব্যক্তিদের অবিলম্বে যত্ন নেওয়া উচিত। পুনরুদ্ধারের পরে, যাদের ডেঙ্গু হয়েছে তারা কয়েক সপ্তাহ ধরে ক্লান্ত বোধ করতে পারে।

দুই থেকে সাত দিনের মাঝে সাধারণত ডেঙ্গু রোগী ভালো হয়ে যায়। কিছু কিছু ক্ষেত্রে রোগটি মারাত্মক রূপ নিতে পারে যাকে ডেঙ্গু রক্তক্ষরী জ্বর (ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভার) বলা হয়। এর ফলে রক্তপাত হয়, রক্ত অনুচক্রিকার মাত্রা কমে যায় এবং রক্ত প্লাজমার নিঃসরণ ঘটে। কিছু কিছু ক্ষেত্রে কখনোবা ডেঙ্গু শক সিনড্রোম দেখা দেয়। ডেঙ্গু শক সিনড্রোমে রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে কমে যায়।

Dengue and severe dengue

ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায়  :-

ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধী টিকা কয়েকটি দেশে অনুমোদিত হয়েছে তবে এই টিকা শুধু একবার সংক্রমিত হয়েছে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে কার্যকর। মূলত এডিস মশার কামড় এড়িয়ে চলাই ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায়। যে মশা ডেঙ্গু ছড়ায় তারা দিনের বেলায় সক্রিয় থাকে। তাই মশার বাসস্থান ধ্বংস করে মশার বংশবিস্তার প্রতিরোধ করতে হবে। এ জন্য এডিস মশার বংশবিস্তারের উপযোগী বিভিন্ন জায়গা, যেমন, কাপ, টব, টায়ার, ডাবের খোলস, গর্ত, ছাদ ইত্যাদিতে আটকে থাকা জল  অপসারণ করতে হবে। শরীরের বেশির ভাগ অংশ ঢেকে রাখে এমন পোশাক পরতে হবে।

ডেঙ্গু জ্বর হলে কী কী করবেন :-

ডেঙ্গু জ্বর হলে পরিপূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে এবং বেশি করে তরল খাবার খেতে  হবে। জ্বর কমাতে প্যারাসিটামল দেওয়া হয়। খুব বেশি অসুবিধে হলে রোগীকেই স্যালাইন দিতে হতে পারে। মারাত্মক রূপ ধারণ করলে রোগীকে রক্তও  দিতে হতে পারে। ডেঙ্গু জ্বরে হলে কোন ধরনের এন্টিবায়োটিক ও ননস্টেরয়েডাল যন্ত্রনা কমকরা ওষুধ খাওয়া যাবে না, কারণ এতে করলে রক্তপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

Dengue and severe dengue

মাতৃ সংক্রমণ:-

মানুষের মধ্যে ডেঙ্গু সংক্রমণের প্রাথমিক পদ্ধতিতে মশা জড়িত। তবে প্রসূতি সংক্রমণের (গর্ভবতী মা থেকে তার শিশুর মধ্যে) হওয়ার সম্ভাবনার প্রমাণ রয়েছে। একই সময়ে, তবে অপেক্ষাকৃত সংক্রমণের হার কম দেখা যায়, এই সংক্রমণের ঝুঁকি আপাতদৃষ্টিতে গর্ভাবস্থায় ডেঙ্গু সংক্রমণের সময়ের সাথে যুক্ত। যখন একজন মা গর্ভবতী অবস্থায় ডেঙ্গু সংক্রমণে আক্রান্ত হন, তখন শিশুরা প্রি-টার্ম জন্ম, কম জন্ম ওজন এবং ভ্রূণের সমস্যায় ভুগতে পারে।

ডায়াগনস্টিকস এবং চিকিত্সা:-

ডেঙ্গু জ্বরের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ব্যথার ওষুধ দিয়ে বাড়িতে চিকিৎসা করা যায়। ডেঙ্গু এড়াতে মশার কামড় প্রতিরোধ করাই সবচেয়ে ভালো উপায়। ডেঙ্গু জ্বর হলে পরিপূর্ণ বিশ্রাম নিতে হবে এবং বেশি করে তরল খাবার খেতে  হবে। ডেঙ্গুর কোনো নির্দিষ্ট চিকিৎসা নেই।

ডেঙ্গু জ্বরে হলে কোন ধরনের এন্টিবায়োটিক ও ননস্টেরয়েডাল যন্ত্রনা কমকরা ওষুধ খাওয়া যাবে না, কারণ এতে করলে রক্তপাতের ঝুঁকি বেড়ে যায়।

ডেঙ্গু জ্বর প্রতিরোধী টিকা কয়েকটি দেশে অনুমোদিত হয়েছে তবে এই টিকা শুধু একবার সংক্রমিত হয়েছে এমন ব্যক্তির ক্ষেত্রে কার্যকর এবং তারা এমন জায়গায় বাস করে যেখানে এই রোগটি সাধারণ। গুরুতর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত ব্যক্তিদের জন্য প্রায়ই হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয়।

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ পরবর্তী কালে ডেঙ্গু একটি বৈশ্বিক আপদে পরিণত হয়েছে। এশিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা ও অন্যান্য মহাদেশের ১১০টির অধিক দেশে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব হয়। প্রতি বছর পাঁচ থেকে পঞ্চাশ কোটি মানুষ ডেঙ্গুতে সংক্রমিত হয় এবং তাদের মাঝে দশ থেকে বিশ হাজারের মতো মারা যায়। ১৭৭৯ সালে ডেঙ্গুর প্রথম উল্লেখ পাওয়া যায়। বিংশ শতকের প্রথমভাগে ডেঙ্গুর ভাইরাস উৎস ও সংক্রমণ বিশদভাবে জানা যায়। মশক নিধনই বর্তমানে ডেঙ্গু প্রতিরোধের প্রধান উপায়। সরাসরি ডেঙ্গু ভাইরাসকে লক্ষ্য করে ওষুধ উদ্ভাবনের গবেষণা চলমান রয়েছে।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বিশেষ কিছু গ্রীষ্মমণ্ডলীয় রোগের একটি হিসেবে ডেঙ্গু চিহ্নিত করেছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here