অবশেষে দেশদ্রোহ বা রাষ্ট্রদ্রোহ আইন আরো কঠোর হতে চলেছে

0
59

Ministry of Law and Justice

অবশেষে দেশদ্রোহ বা রাষ্ট্রদ্রোহ আইন আরো কঠোর হতে চলেছে, বর্ষা কালীন অধিবেশনে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার লোকসভায় crpc সংশোধনী বিল পেশ করেন।  তিনি বলেন, এই বিলের মাধ্যমে বৃটিশদের আমলে তৈরি এসব পুরনো আইনের ব্যাপক পরিবর্তন হবে।  অমিত শাহ বলেছেন যে চার বছর ধরে এগুলি নিয়ে গভীর আলোচনা হয়েছে এবং ব্রিটিশ আমলের আইন আর চলবে না।  তিনি বলেন, দাসত্বের নিদর্শনে ভরা আইনগুলো আমরা সরিয়ে দিচ্ছি এবং আমরা এমন আইন আনছি যা শাস্তি নয়, ন্যায়বিচার দেয়।  এসব নতুন আইন সংসদের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হবে।

ব্রিটিশ আমলে তৈরি ১৮৬০ সালের ওই আইন বদলে নতুন আইন আসতে চলেছে। আইপিসি 1860, সিআরপিসি 1898, ইন্ডিয়ান এভিডেন্স অ্যাক্ট 1872, ব্রিটিশদের আনা এই তিনটি আইন এখন 1872 সালের জায়গায় ইন্ডিয়ান জাস্টিস কোড 2023, ইন্ডিয়ান সিভিল ডিফেন্স কোড 2023 এবং ইন্ডিয়ান এভিডেন্স অ্যাক্ট 2023 দ্বারা প্রতিস্থাপিত হয়েছে। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ শুক্রবার লোকসভায় এ-সংক্রান্ত নতুন বিল পেশ করেছেন। সংসদে অমিত শাহ বলেন, প্রস্তাবিত নতুন আইনে গণপিটুনিতে হত্যা বন্ধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। দলবদ্ধ ধর্ষণ ও নাবালিকা ধর্ষণের মতো অপরাধ রুখতে ২০ বছর, যাবজ্জীবন কারাবাস এমনকি মৃত্যুদণ্ড দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

তিনি বলেছেন যে 2019 সাল থেকেই মোদীজি বলেছিলেন যে ব্রিটিশদের তৈরি আইন আজকের নিয়ম অনুসারে তৈরি হবে।  এ জন্য ব্যাপক আলোচনা করা হয়েছে।  সমস্ত হাইকোর্ট, বিশ্ববিদ্যালয়, সুপ্রিম কোর্ট, আইএএস, আইপিএস, রাজ্যপাল, মুখ্যমন্ত্রী, এমপি, এমএলএ, আইন বিশ্ববিদ্যালয় ইত্যাদিতে চিঠি লিখে পরামর্শ নেওয়া হয়েছে।

Ministry of Law and Justice

সম্পর্কিত খবর:-

এই বিলের প্রথম অধ্যায়ে নারী ও শিশু নির্যাতনের বিষয়টি রাখা হয়েছে।  দ্বিতীয় অধ্যায়ে হত্যা এবং মানবদেহের বিরুদ্ধে অপরাধ নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।

শুধু তাই নয়, যৌন হয়রানির শিকার ব্যক্তির বয়ানের ভিডিও রেকর্ডিং বাধ্যতামূলক হবে।  এর স্ট্যাটাস রিপোর্ট 90 দিনের মধ্যে পাঠাতে হবে।  শুধু তাই নয়, ৭ বছরের বেশি সাজার বিধান থাকা মামলায় ভিকটিমকে শুনানি ছাড়া সেই মামলা বন্ধ করা হবে না।

এখন শূন্য এফআইআর শক্তিশালী করা হবে এবং যে কোনও ব্যক্তি যে কোনও জায়গা থেকে শূন্য এফআইআর করতে পারবেন।  অপরাধের প্রতিবেদন ১৫ দিনের মধ্যে সংশ্লিষ্ট থানায় পাঠাতে হবে।  এই বিল অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে চার্জশিট দাখিল করতে হবে।  সরকারি কর্মচারীর বিরুদ্ধে অভিযোগপত্রের জন্য পুলিশের অনুমতি নিতে হবে।

যদি কাউকে পুলিশ হেফাজতে নেয়, তাহলে সেই ব্যক্তির পরিবারের সদস্যদের অনলাইনে এবং কাগজপত্রে জানানো বাধ্যতামূলক হবে।

মৃত্যুদণ্ডের অপরাধীদের আজীবনের জন্য পরিবর্তন করা যেতে পারে, কিন্তু এ ধরনের অপরাধীদের কোনোভাবেই মুক্তি দেওয়া হবে না।

গণপিটুনিতে হত্যার ঘটনা ইদানীং ব্যাপক হারে বেড়ে গেছে। বিশেষ করে গোহত্যা বন্ধে রাজ্যে রাজ্যে গণপিটুনিতে বহু মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই প্রবণতা বন্ধে নতুন আইনে বিশেষ ধারা রাখা হয়েছে। দলবদ্ধ ধর্ষণের ঘটনাও মাত্রাতিরিক্তভাবে বেড়ে গেছে। বেড়েছে নাবালিকা ধর্ষণ ও হত্যার প্রবণতাও। এ ধরনের অপরাধের সাজা হবে ২০ বছরের কারাবাস থেকে মৃত্যুদণ্ড। অমিত শাহ বলেন, নতুন বিলে শিশু ও নারীর বিরুদ্ধে অত্যাচার, হত্যা ও রাষ্ট্রের বিরুদ্ধাচরণকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। সাধারণ অপরাধের সাজা হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে সমাজসেবাকে। এ ধরনের সাজা চালু করার প্রস্তাব এই প্রথম নতুন বিলে দেওয়া হয়েছে। অপরাধ না করার মানসিকতা ও সচেতনতা যাতে বাড়ে, তা নিশ্চিত করাই হবে শাস্তিদানের লক্ষ্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here