OMG 2 পর্যালোচনা

0
57

OMG 2

 

OMG 2 পর্যালোচনা: আড়াই ঘন্টার এই সিনেমাটি যেমন সেনসিটিভ এবং কিছুটা বোল্ডও আমি কী কারণে বলছি সেটা হলো আমাদের সামাজিক অবস্থা। কেননা OMG 2 মূলত দাঁড়িয়ে আছে টিনএজ সেক্স এডুকেশন এর উপরে, যেখানে সেক্স সেখানে কট্রোভারসি তো আসবেই। আর এই কন্ট্রভারসি হওয়ার আসল কারণই হচ্ছে সঠিক এডুকেশন না থাকা।

সিনেমাটি একটি সামাজিক বার্তা এবং হাস্যরসের একটি সঠিক মাত্রা দিয়ে, অমিত রাই পঙ্কজ ত্রিপাঠি এবং অক্ষয় কুমার অভিনীত একটি আকর্ষণীয় সিনেমা আমার মনেহয়েছে ৷ সবথেকে ভালোলাগার বেপার যেটা সেটা হলো এই এতো সুন্দুর করে, খুলে প্রত্যেকটা বিষয় কে পর্যালোচনা করাহয়েছে অ্যাডাল্ট এডুকেশন এর ব্যাপারে এটা সত্যি একটা শিক্ষণীয় বিষয় যেটা সম্পূর্ণ আমার অভিমত। আমি এইটুকু বলতে পারি যে বর্তমান টিনেজার্স এর মধ্যে যে মিস-আন্ডারস্ট্যান্ডিং এবং লাক অফ নলেজ আছে তার চাহিদা পূরণ করার জন্য এই এডুকেশনাল সিনেমা টা যথেষ্ট।

আর একটা কথা যারা এখনো পর্যন্ত বলছেন ভগবানকে কী ভাবে এই সিনেমার সঙ্গে জুড়ে অবমাননা করছে, দয়া করে তারা একবার অন্তত এই সিনেমাটি দেখুন কেননা আপনারা সিনেমা টি দেখলে হয়তো এই কথাগুলো বলবেন না, যদি জীববিদ্যা স্কুল পাঠ্যক্রমের একটি বিষয় হয়, তাহলে কেন প্রজনন বিদ্যা অধ্যায়টি সাধারণ ভাবেই উপেক্ষা করা হয় এবং কখনই সঠিকভাবে শেখানো হয় না কেন ?

OMG 2 এই যুক্তিগুলিকে হাস্যরসে মাখিয়ে খুব সুন্দর ভাবে উপস্থাপন করেছে। যখন সেন্সর বোর্ড সিনেমাটিকে A ক্যাটাগরি তে দিয়েছে তখন আর কি বলার আছে কেননা প্রজনন বিদ্যা পড়লে প্রজনন অঙ্গ তো জানতেই হবে, সেই কারণেই হয়তো আমাদের সমাজ প্রজনন বিদ্যার অধ্যায় টাকেই ছেড়ে পড়াচ্ছেন আর তার ফল টিনেজার্সকে দিতে হচ্ছে। আমি কী কারণে বলছি হয়তো এই সিনেমাটি দেখলেই আপনি বুজতে পারবেন।

পরিচালক-লেখক অমিত রাই যৌন শিক্ষার বিষয়টিকে অযৌক্তিক বা অশ্লীল শব্দে বেখ্যা না করে সূক্ষ্মভাবে স্পর্শ করেছেন। ছবিতে কান্তি শরণ মুদ্গাল (পঙ্কজ ত্রিপাঠী) কে চিহ্নিত করা হয়েছে যিনি একটি মন্দিরের কাছে একটি পূজার দোকান চালান এবং তিনি মহাকালের (ভগবান শিবের) একনিষ্ঠ  ভক্ত, একজন যত্নশীল স্বামী, একজন ভালো বাবা এবং সাধারণত একজন দয়ালু মানুষ।

তার জীবন উল্টে যায় যখন তার ছেলে বিবেক (আরুশ ভার্মা) অত্যধিক হস্তমৈথুনের কারণে, হাসপাতালে ভর্তি হয় এবং পুনরায় স্কুলের টয়লেটে তার এই কাজ করার ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়েছে। অশ্লীল আচরণের অজুহাতে প্রথমে স্কুল থেকে এবং পরে সমাজ থেকেও তাকে এবং তার পরিবার কে বিচ্ছিন্ন হতে হয়।

তার পরিবারকে বঞ্চিত হওয়া থেকে বাঁচানোর জন্য, কান্তি তার পরিবারের সাথে পালিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়, এবং তখনই ঈশ্বরের দূত (অক্ষয় কুমার) তাকে গাইড করতে এবং তার ছেলের জন্য লড়াই করার জন্য তাকে একটি ধার্মিক পথে নিয়ে আসে।

কান্তি বুঝতে পেরে যে তার ছেলে আসলে ভুল তথ্য এবং বিভ্রান্তির শিকার হয়েছে, তখন সে বিষয়টি নিজের হাতে নেয় এবং স্কুল কর্তৃপক্ষকে, (বাবা) কান্তি শরণ মুদ্গাল (পঙ্কজ ত্রিপাঠী), সেক্স থেরাপিস্ট, একজন ডাক্তার এবং একজন রসায়নবিদ সহ আদালতে টেনে নিয়ে যায় যিনি বিবেককে তার সম্পর্কে সচেতন করেছিলেন। যৌন ইচ্ছা সেখানে, তাকে একজন ইংরেজিভাষী আইনজীবী কামিনী মহেশ্বরীর (ইয়ামি গৌতম) বিরুদ্ধে দাঁড় করানো হয় এবং দুজন বিচারক পুরুষোত্তম নগরের (পবন মালহোত্রা) সামনে তাদের যুক্তি উপস্থাপন করে।

অমিত রাইয়ের সাহসী অথচ সংবেদনশীল লেখা ছবিটির তারকা যা একটি সামাজিকভাবে প্রাসঙ্গিক গল্পকে আরও কার্যকর করে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, ফিল্মটি একটি প্রাসঙ্গিক প্রশ্ন উত্থাপন করে যে কেন লোকেরা লিঙ্গ এবং যোনিকে লিঙ্গ এবং যোনি বলে না এবং পরিবর্তে অপবাদ ব্যবহার করে বা তাদের নাম দেয়? একটি দৃশ্যে, ত্রিপাঠী যখন দেখানোর চেষ্টা করছেন যে স্কুলগুলিকে কীভাবে যৌন শিক্ষা দেওয়া উচিত, তখন তিনি লিঙ্গকে ‘লিং’ এবং যোনিকে ‘স্ত্রী কি যোনি’ বলে উল্লেখ করেন এবং এটি শুনতে অস্বস্তি বোধ করেন না।

OMG 2 হল ভারতীয় পিতামাতা এবং শিশুদের মধ্যে ব্যবধান হ্রাস করার একটি আন্তরিক প্রয়াস যখন এটি শারীরিক ঘনিষ্ঠতা সম্পর্কে একটি আরামদায়ক আলোচনার ক্ষেত্রে আসে। চলচ্চিত্রটি তার চরিত্রগুলির মাধ্যমে যে প্রগতিশীল দৃষ্টিভঙ্গি দেখানোর চেষ্টা করে তা আমাদের কাছে ভালভাবে যৌন শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরার দিকে মনোনিবেশ করেছে।

OMG 2 একটি সামাজিক বার্তা এবং হাস্যরসের একটি সঠিক মাত্রা দিয়ে, অমিত রাই পঙ্কজ ত্রিপাঠি এবং অক্ষয় কুমার অভিনীত একটি আকর্ষণীয় সিনেমা ৷ স্ক্রিপ্ট ছাড়া, OMG 2 এর পঙ্কজ ত্রিপাঠী এবং অক্ষয় কুমারের অন্তর্গত সঞ্চালন বিভিন্ন অঙ্গভঙ্গির মাধ্যম এবং সংলাপগুলি সিনেমা টিকে কিছুটা অনন্য ভাবধারাতে দর্শক দের ভাসিয়ে নিয়ে যাবে।

OMG 2 হল এমন একটি ফিল্ম যা পারিবারিকভাবে দেখার জন্য তৈরি, কারণ এটি বাবা-মা এবং বাচ্চাদের মধ্যে যে ব্যবধানটি দীর্ঘদিন ধরে চলেছে তার থেকে মুক্তি দেবে এবং এই নির্দিষ্ট বিষয়ে কথা বলার স্বাচ্ছন্দ্যবোধ কে এক নুতন মাত্রা দেবে। কিন্তু এখন সামাজিকতা এমনি যে এখনো হয়তো আমাদের সেই জায়গাতে আস্তে আরো একটু সময় লাগবে।

সেই জন্য ১৮ বছরের বেশি হলেই সিনেমাহলে গিয়ে এই সিনেমাটি অতি অবসসই দেখবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here